দেড়শর আগেই আফগানিস্তানের চার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ইকরাম আলীখিলকে সঙ্গে নিয়ে আফগান অধিনায়ক রহমত শাহর দারুণ এক প্রতিরোধে সেটা আর সম্ভব হয়নি। তবু টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশই এগিয়ে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তুলেছে আফগানিস্তান।
এর আগে বাংলাদেশ তাদের নিজেদের প্রথম ইনিংসে তুলেছে ৩৪৬ রান। অর্থাৎ এখন ১৩৫ রানে পিছিয়ে আছে আফগানিস্তান, হাতে তাদের ৬ উইকেট।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের তৃতীয় দিনে শুরুতে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকা সহজ হবে বাংলাদেশের জন্য।
আগের দিনের ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে শনিবার সকালে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে বাকি দুই উইকেট থেকে আসে মাত্র ২৯ রান। ৬৭ বলে ৩৫ রান করা নাঈম হাসান অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে অর্ধশতক করেন তিন ব্যাটার। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের ৮৩ ও শাদমান ইসলামের ৬৭ রানের পর লিটন দাস করেন ৫৩ রান। আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সালিম চারটি এবং ইয়ামিন আহমদজাই তিনটি উইকেট নেন।
জবাবে আফগানিস্তানকে শুরুতেই চাপে ফেলে বাংলাদেশ। দলীয় ৩০ রানে সেদিকউল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। ১৭ রান করে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দেন এই ওপেনার। এরপর শাহিদুল্লাহ কামালকে ২০ রানে ফিরিয়ে দেন ইবাদত হোসেন। ৬৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
তবে তৃতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন আবদুল মালিক ও রহমত শাহ। দুজনের ৭০ রানের জুটি ভাঙেন ইবাদত। ১২০ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৬২ রান করে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন মালিক।
চা বিরতির পরপরই বাংলাদেশের পক্ষে আরেকটি উইকেট এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে কোনো রান না করেই ফেরেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। ১৩৯ রানে চতুর্থ উইকেট তুলে নিয়ে আফগানিস্তানকে বেশ চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। সুযোগ ছিল সেই চাপেই আফগানদের অল্পতেই গুটিয়ে দেওয়ার।
কিন্তু রহমত শাহ ও ইকরাম দারুণ প্রতিরোধ গড়ে সেটা আর হতে দেননি। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের বাকি সময় পার করে আফগানিস্তান। ১৮৬ বলের ইনিংসে আটটি চার ও একটি ছক্কায় ৮৪ রান করেছেন রহমত। অন্য প্রান্তে ৯১ বলে ২৬ রান নিয়ে অপরাজিত ইকরাম।
বাংলাদেশের হয়ে ইবাদত ৫০ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন। হাসান মাহমুদ ৩৬ এবং মিরাজ ৩৭ রান খরচায় একটি করে উইকেট পেয়েছেন।





