এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরান নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখন তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে রেনি নিকোল গুড নামে এক নারী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হচ্ছে আমেরিকায়। কনকনে শীত উপেক্ষা করে মিনিয়াপোলিসে রাজপথে নামেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের দাবি একটাই, আইস বিলুপ্ত করতে হবে। আইস নিয়ে সেখানে মূল সমস্যা কী? অভিবাসন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রই এখন কী করবে?
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসনবিরোধী যে অভিযান চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। দেশটির মিনিয়াপোলিস, নিউইয়র্ক সিটি, টেক্সাস, ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভ হয়েছে। ফিলাডেলফিয়া এবং নিউইয়র্কের ম্যানহাটানেও গত শনিবার আইসবিরোধী স্লোগানে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন ‘আইসকে চলে যেতে হবে’।
ঘটনার শুরু গত বুধবার। সেদিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এর এক কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নিহত হন। তিনি মিনিয়াপোলিসে আইসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ছিলেন। আইসের বর্ষপূর্তির সময়ে এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট নেতাদের এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই হত্যাকাণ্ড সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিক্ষোভকারীরা এই হত্যাকাণ্ডটিকে ফেডারেল তদন্তের ঘাটতি ও আইস–এর ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের যে সরকারই আসুক না কেন, তাদের পলিসি একই থাকে বলে প্রচলিত বয়ান রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে অভিবাসীদের বিষয় ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে সেখানে অভিবাসন নীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপক ধরপাকড় এবং অপমান করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। আর এসব কাজ প্রধানত করে আসছে আইস। এবার জনগণের সেই ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে সংস্থাটির উপর। বিক্ষোভকারীরা ‘আইসকে চলে যেতে হবে’, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই নেই’—এমন নানা স্লোগান দেন।
এই ঘটনা নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়েছে। তারাও বলছে, অন্যায়ভাবে রেনি নিকোল গুডকে মেরে ফেলা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন বলছে, এই ঘটনাটি স্রেফ সময়ের প্রয়োজনে ঘটেছে। তাদের দাবি, আত্মরক্ষার কারণে ওই এজেন্ট রেনে গুডকে গুলি করেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, তিনি একজন কর্মকর্তাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যে জবাবই দাঁড় করাক, আইস ইস্যুতে জনমত এখন তাদের অনেকটাই বিপক্ষে চলে গেছে। সাধারণ মানুষ বলছে, এতে তারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে এখন শুধু এ আশাটুকুই তারা করতে পারছে।




