
ঢাকা, ১৪ এপ্রিল – চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কোলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আন্দোলনের মুখে আইপিএল ও কোলকাতা কর্তৃপক্ষ তাকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। উইজডেনের সম্পাদক লরেন্স বুথ তার এক লেখায় জানিয়েছেন এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ক্রিকেটে রাজনীতির নগ্ন প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
নিলামে ৯ দশমিক ২ কোটি রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়েছিল কোলকাতা। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে জানা যায়।
লরেন্স বুথ তার কলামে উল্লেখ করেন মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি নিছক ক্রিকেটীয় ছিল না এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তার মতে ক্রিকেট খেলাটি ক্রমশ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের শিকার হচ্ছে।
মোস্তাফিজের বাদ পড়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। তারা শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচগুলো খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকেই বাদ পড়ে যায়। এর জেরে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেয় পাকিস্তান।
লরেন্স বুথ এই পরিস্থিতিকে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ঘটনার সাথে তুলনা করেন যেখানে ভারতের অনুরোধে ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছিল। বুথের মতে এক দেশের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং অন্য দেশের ক্ষেত্রে তা অস্বীকার করা আইসিসির বৈষম্যমূলক নীতির প্রমাণ।
পাকিস্তানের বয়কটের হুমকিকে হতাশাজনক ও আত্মঘাতী প্রতিক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করলেও বুথ মনে করেন এটি ক্রিকেট অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থাকেই প্রকাশ করেছে।
ক্রিকেটের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অরওয়েলীয় আখ্যা দিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে বাস্তব সমস্যার গভীরে না গিয়ে খেলাধুলায় রাজনীতির প্রভাবকে বারবার এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মোস্তাফিজুর রহমানের এই ঘটনা কেবল একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের ক্ষতি নয় বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনীতি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বৈষম্যের এক বিশাল চিত্র তুলে ধরেছে।
এনএন/ ১৪ এপ্রিল ২০২৬






