গতকাল দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম নগরের কদমতলীর ফোর স্টার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে দেখা যায়, ওই স্টেশন থেকে গ্যাস নিতে সড়কজুড়ে অন্তত তিন শ অটোরিকশা লাইনে দাঁড়িয়েছিল। মো. মফিজুর রহমান, আবদুস সাত্তার ও রহিম উদ্দিন নামের তিন চালক প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল। কিন্তু চাপ ছিল একেবারে কম।
একই দৃশ্য দেখা গেল নগরের ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনে। কয়েক শ অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত কারের চালক গ্যাস নিতে অপেক্ষা করছিলেন। গ্যাস–সংকটের কারণে চট্টগ্রামের সড়কে যানবাহন ছিল কম। কিছু অটোরিকশা চললেও বাড়তি ভাড়া আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
কেজিডিসিএল সূত্র বলছে, চট্টগ্রামে ৭০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনে গ্যাসের চাহিদা ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট। গতকাল পাওয়া গেছে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
এদিকে বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন কুমিল্লা ও ফেনীর সিএনজিচালিত ফিলিং স্টেশনেও গতকাল গ্যাস ছিল না। কয়েকটিতে গ্যাস থাকলেও চাপ ছিল কম। কুমিল্লা জেলায় ৪০টি সিএনজিচালিত ফিলিং স্টেশন আছে। কুমিল্লা জেলা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সাধারণ সম্পাদক ও রিভারভিউ ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আলী মনসুর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, গত ১৫ দিন থেকেই ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম ছিল। টার্মিনালে ত্রুটির কারণে গত শুক্রবার আরও সমস্যা তৈরি হয়।
বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) আওতাধীন কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। গতকালও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যায়নি। এসব জেলায় ৪ লাখ ৮৮ হাজার ২৮টি গৃহস্থালি গ্যাসের সংযোগ আছে। এ ছাড়া সব মিলিয়ে ৯১টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ৫৭৫টি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, ১ হাজার ৫৬৩টি হোটেল–রেস্তোরাঁ, ৮১টি ক্যাপটিভ পাওয়ার, ১৮৪টি শিল্পকারখানা, একটি সারকারখানা ও ১৪টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে।





