অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো—বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য তো বটেই, এশিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেও বড় এক অর্জন। ডারউইনে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল গড়েছে এমন এক কীর্তি, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের ক্ষেত্রে এশিয়ার বেশ কয়েকটি পরাশক্তিকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়ে মাত্র তৃতীয় ম্যাচেই জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট জয় পেতে ভারতকে খেলতে হয়েছিল ১২টি ম্যাচ, পাকিস্তানকে ৭টি। শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৫টি টেস্ট খেলেও জয়ের দেখা পায়নি।
সেদিক থেকে বাংলাদেশের এই সাফল্য এসেছে তুলনামূলকভাবে দ্রুত। মাত্র তিন টেস্টের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা।
তিন দশক পর এশিয়ার আরেক দলের জয়
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এশিয়ার দলগুলোর বিপক্ষে স্বাগতিকদের দীর্ঘদিনের আধিপত্যও ভেঙেছে বাংলাদেশ। ১৯৯৫ সালের পর ভারতের বাইরে অন্য কোনো এশীয় দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে হারেনি স্বাগতিকরা— এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয়টি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেও বিশেষ। উইকেটের ব্যবধানে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেস্ট জয়।
এই তালিকায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টি এসেছিল ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে। সেই ম্যাচে ১০ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ।
ডারউইনে বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দলীয় পারফরম্যান্স। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররা অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করেন। হাসান মাহমুদ একাই নেন ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেন।
এরপর ব্যাট হাতে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। ফলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র এক উইকেট হারিয়েই গন্তব্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে কম ম্যাচে প্রথম টেস্ট জয় বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। এর সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডির পর আবারও বিদেশের মাটিতে বড় দলের বিপক্ষে দাপুটে জয় প্রমাণ করছে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামর্থ্য এখন আর কেবল ঘরের মাঠকেন্দ্রিক নয়।
