অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনুন

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনুন

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ও সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত বনটি বড়হাতিয়া নামে পরিচিত। ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামে একটি বনের প্রায় আড়াই হাজার একর বনভূমি ডুবিয়ে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি করেছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এটি তৈরি করা হয়েছিল বনের সোনাকানিয়া ছড়ায় বাঁধ দিয়ে। বন বিভাগ বলছে, হ্রদ তৈরির কারণে গামারি, সেগুন, চিকরাশি, অর্জুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় প্রায় পাঁচ লাখ গাছ মারা গেছে। বাঁধ দেওয়ার ফলে ছড়াটি বন্ধ হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘বাঁধ ভাঙার জন্য আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সব ধরনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাঁধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে সফল হইনি।’ সোনাইছড়ি ছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি, তবে বাঁধ নির্মাণ থেকে শুরু করে হ্রদ পরিচালনা করতেন মো. নাছির উদ্দিন ও মনজুর আলম নামের দুই ব্যক্তি। তাঁরা সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কেউ কিছু করার সাহস পাননি এত দিন।’

বন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন (২০২২-২৩) বলছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংরক্ষিত বনগুলোকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয় ব্রিটিশ শাসনামলে। দেশে এখন প্রায় ৩৩ লাখ ১১ হাজার একর সংরক্ষিত ও ১১ লাখ ৭৩ হাজার একর রক্ষিত বন রয়েছে, যার মধ্যে বড়হাতিয়া বনটিও আছে। এর আগে বন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে বন বিনষ্ট করা; বন্য প্রাণী ও পাখি শিকার; পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রভাবশালীরা সেসব মামলা ও সুপারিশ আমলে নেওয়ারই প্রয়োজন মনে করেননি।

Scroll to Top