‘অবৈধ হাউজবোট’ দেখতে হাউজবোট রিকুইজিশন চেয়েছিল প্রশাসন | চ্যানেল আই অনলাইন

‘অবৈধ হাউজবোট’ দেখতে হাউজবোট রিকুইজিশন চেয়েছিল প্রশাসন | চ্যানেল আই অনলাইন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অবৈধ হাউজবোটগুলোতে মাদকের সহজলভ্যতাসহ নানান অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনার জন্য ‘দহিম এ লাক্সারি হাউজবোট’ রিকুইজিশন চেয়েছিল জেলা প্রশাসন।

দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। পর্যটকদের উপস্থিতিতে জমজমাট পর্যটনকেন্দ্র।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি রিকুইজিশন (অধিযাচন) অফিস আদেশ ভাইরাল হয়। সেখানে বলা হয় অস্থাবর সম্পত্তি হুকুম দখল আইন ১৯৮৮-এর ধারা মোতাবেক ‘দহিম এ লাক্সারি হাউজবোট’-এর চালকসহ ২২ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দুই দিনের রিকুইজিশন করা হয়। কিন্তু ওই হাউজবোটের আগে থেকে পর্যটকদের জন্য বুকিং থাকায় পরে রিকুইজিশন বাতিল করে জেলা প্রশাসন।

ওই সরকারি অফিস আদেশে সই করা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখার সহকারী কমিশনার মো. ফজলুল করিম টিপু চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা তাদের বুকিংয়ের বিষয়টি জানতাম না। এখন খোঁজ নিলে জানতে পারবেন তাদের অতিথিরাই হাউজবোটটিতে ভ্রমণ করছে। আমরা আমাদের রিকুইজিশন বাতিল করেছি।

হাউজবোটটি সরকারি কী কাজে ব্যবহার করার জন্য রিকুইজিশন করা হয়েছিল জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অবৈধ হাউজবোটগুলোতে মাদকের সহজলভ্যতাসহ নানান অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা একটি অভিযান পরিচালনা করতে চেয়েছিলাম। আমাদের জলযান না থাকায় আমরা ‘দহিম এ লাক্সারি হাউজবোট’ রিকুইজিশন করেছিলাম।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কথার সঙ্গে সত্যতাও মেলে। তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী পর্যটন স্পট টাঙ্গুয়ার হাওর, বারিকাটিলা, নীলাদ্রি লেক, লাকমাছড়া এলাকার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে হাউজবোটে সহজেই মিলছে মাদক। অদক্ষ ও অপেশাদার লোক দিয়ে হাউজবোর্ডগুলো পরিচালনায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। যার ফলে অনেক পর্যটকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।  এছাড়া অবৈধ হাউজবোটে নানান অনিয়মতো রয়েছেই।

বিষয়টি স্বীকার করে জেলা পুলিশ কর্মকর্তা জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরে মাদক নির্মূল করতে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর নিয়মিত কাজ করছে।

সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেখছেন বিষয়টি। প্রশাসন নিয়মিত আমাদের সহায়তা নিচ্ছে, মোবাইল কোট চালু আছে।’

টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাউসবোটগুলোতে নিয়মিত তল্লাশিসহ নজরদারি বাড়ানোর দাবি সুনামগঞ্জবাসীর।

Scroll to Top