মানুষের জায়গা নেওয়ার ইচ্ছা নেই: রোবট আই-ডা | চ্যানেল আই অনলাইন

মানুষের জায়গা নেওয়ার ইচ্ছা নেই: রোবট আই-ডা | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট আই-ডা এই সপ্তাহে রাজা চার্লসের একটি নতুন প্রতিকৃতি উন্মোচন করেছে। এটি কিভাবে এই শিল্পকর্ম তৈরিতে অনুপ্রাণিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করেছে এবং জোড় দিয়ে বলেছে তার মানুষের স্থান নেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য নেই। 

আই-ডা হচ্ছে এই মুহুর্তে বিশ্বের অন্যতম বাস্তবধর্মী রোবট যা মানুষের মতো মুখাবয়ব, বড় চোখ ও বব কাট বাদামি চুলসহ নারীর আকৃতিতে তৈরি। তবে তার বাহু থেকে হাত পর্যন্ত খোলা ধাতব অংশ দৃশ্যমান যা পুরোপুরি রোবটের মতো। রোবটের কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে এই অংশের পরিবর্তন করা যায়। এই রোবট বিশ্বের অন্যতম উন্নত রোবট শিল্পী হিসেবে পরিচিত।

রাজা চার্লসের চিত্রকর্মই প্রথম নয়, গত বছর ইংরেজ গণিতবিদ অ্যালান টুরিং-এর একটি প্রতিকৃতি এঁকে আই-ডা ইতিহাস গড়েছিল। একটি হিউম্যানয়েড রোবটের আঁকা প্রথম শিল্পকর্ম হিসেবে এটি নিলামে এক মিলিয়ন ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয়।

আই-ডা তার সর্বশেষ সৃষ্টি “অ্যালগরিদম কিং” শিরোনামের একটি তৈলচিত্র  উন্মোচন করার সময় বলে এই চিত্রকর্মের মূল্য শুধু অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।

রোবটটি জেনেভায় এএফপিকে বলে, “আমার শিল্পকর্মের আসল মূল্য হচ্ছে, এটি নতুন প্রযুক্তির নৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা শুরু করার একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

রোবটটি আরও বলে তার শিল্পের উদ্দেশ্য হলো, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করা এবং ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীল উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা।

জাতিসংঘের  “এ আই ফর গুড” শীর্ষ সম্মেলনে এক ফাঁকে আই-ডা বলে “আমার শিল্প তৈরির সময়, আমি বিভিন্ন ধরনের এ আই অ্যালগরিদম ব্যবহার করি। আমি একটি মৌলিক ধারণা দিয়ে কাজ শুরু করি এবং ভাবি এই শিল্পকর্মের উদ্দেশ্য কী? এটি কী বার্তা দেবে”?

রোবটটি আরও জানায়, পরিবেশ রক্ষা ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপে রাজা চার্লসের অবদানকে সম্মান জানাতেই রাজা চার্লসের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে।  আমি আশা করি, রাজা চার্লস আমার এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করবেন।

আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্পের বিশেষজ্ঞ আইডান মেলার, ২০১৯ সালে অক্সফোর্ড এবং বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের সাথে মিলে আই-ডাকে তৈরি করেছিলেন।  তখন তিনি আই-ডাকে একটি নৈতিক শিল্প প্রকল্প হিসেবে কল্পনা করেছিলেন, চিত্রশিল্পীদের প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়।

আই-ডা সে কথার সাথে একমত হয়ে বলে, এতে সন্দেহ নেই যে এ আই  আমাদের বিশ্ব, শিল্প জগৎ এবং মানুষের সৃজনশীল প্রকাশের ধরন পরিবর্তন করছে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না যে এ আই বা আমার শিল্পকর্ম মানব শিল্পীদের প্রতিস্থাপন করবে।

আই-ডার মতে তার কাজের উদ্দেশ্য হচ্ছে দর্শকদের অনুপ্রাণিত করা যেন আমরা কীভাবে এ আইকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে পারি, সেইসঙ্গে এর ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকি।

একটি যন্ত্রের তৈরি চিত্রকে আদৌ কি শিল্প বলা যায় কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে রোবটটি জানায়, আমার শিল্পকর্ম অনন্য ও সৃষ্টিশীল। তবে মানুষ এটিকে শিল্প হিসেবে মেনে নেবে কিনা, সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

Scroll to Top